টাকা আসার ফাঁদ ছিল না কি আমার মরন ফাঁদ ছিল। তৃতীয় পর্ব ।। 10% beneficary for @shyfox ❤️

in hive-129948 •  2 months ago 
আজ- ৭ই, আশ্বিন | ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | শরৎকাল

শুভ দুপুর
আসসালামু-আলাইকুম/ আদাব - নমস্কার

মাতৃভাষা বাংলা ব্লগিং এর একমাত্র কমিউনিটি আমার বাংলা ব্লগ এর ভারতীয় এবং বাংলাদেশী সদস্যগণ, আশা করি সবাই ভাল আছেন। সবার সুস্থতা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ কামনা করে আমি আমার আজকের পোষ্টটি সেয়ার করতেছি।

আপনারা সবাই জানেন আমি আমার জীবনের একটি গল্প সেয়ার করতেছি। গল্পের নাম হলো “টাকা আসার ফাঁদ ছিল না কি আমার মরন ফাঁদ ছিল”। আজকে আমি এই গল্পের তৃতীয় পর্বটি সেয়ার করবো। যারা এখনো আগের দুই পর্ব পড়েন নি..এখনই পড়ে আসুন। আপনার জীবনে যদি এমন ঘটনা ঘটে তাহলে এই গল্পের মাধ্যমে সর্তক হতে পারবেন। চলোন শুরু করি।

coin-5347680_1920.jpg
Source

আমাদের বাসার পিছলে একটি স্বর্ণকারের দোকান ছিল। বিকালের দিকে আমি ঐ দোকানে গিয়ে স্বর্ণকারকে কয়েন গুলো দেখালাম। দোকানটি এখনো আছে। র্স্বণকার কয়েন গুলো ভালভাবে দেখে আমাকে বলে আপনার কাছে এরকম কয়েন কয়টা আছে। আমি বললাম বেশ কয়েকটা আছে । তিনি বললেন আমি প্রতিটি পয়সা আপনাকে ৬০০ টাকা করে দিবো আপনি নিয়ে আসেন। আমি বললাম দেখেন পয়সা গুলো তো এই মূহর্তে আমার কাছে নেই। এখানে দুইটি সাথে করে আমি নিয়ে এসেছি বাকি গুলো গ্রামের বাড়িতে আছে। আমি যদি বিক্রয় করি তাহলে আপনার কাছে নিয়ে আসবো। তিনি বলেন আপনার নাম্বারটা দিয়ে যান। আমি বললাম নাম্বার লাগবে না। আমার বাসা এটা,বিক্রয় করলে আমি আপনার দোকানে চলে আসবো। তিনি বলেন আচ্ছা ঠিক আছে।

আমি এদোকান থেকে বের হয়ে আরেকটি দোকানে গেলাম। সেখানে তারা বলে একটি পয়সা কি কেটে দেখতে পারি..? আমি বললাম ঠিক আছে দেখেন। তারা একটি পয়সার চারভাগের এক ভাগ কেটে গ্যাসের আগুন দিয়ে পুড়ে বলের মত গুল করে ফেললো। তারপর ভালভাবে দেখে তারা আমাকে জিঙ্গেস করলো এই পয়সা গুলো কোথায় পেয়েছি। আমি বললাম আমরা বন্ধুরা একটি পুরাতন বাড়িতে ক্রিকেট খেলতে গিয়ে পেয়েছি। তারা বললো কয়টা পয়সা আছে,আমি বললাম চার পাচঁটা পয়সা আছে। তারা বললো প্রত্যেকটা পয়সা আটশো টাকা করে দিবো। আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে। বিক্রয় করলে আপনাদের কাছে নিয়ে আসবো। সে দোকান থেকে বের হয়ে চিন্তা করতে লাগলাম এই পয়সাতে কি এমন আছে যে প্রতি পয়সায় আটশো টাকা করে দিতে চাইতেছে। বড় কোন স্বর্ণকারের দোকানে যেতে হবে। তারপর নারায়নগঞ্জ শহরে স্বর্ণপট্টিতে গেলাম।

সেখানে বড় একটি দোকানে দেখালাম। তারা অনেক্ষন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে,আমাকে বলে আপনার কাছে কয়টা পয়সা আছে। আমি বললাম আছে বেশ কয়েকটি। তারা বলে আমরা কিছু পয়সা দিবো ৮০০ টাকা করে,আর কিছু পয়সা দিবো ১৬০০ টাকা করে আর কিছু পয়সা আছে যেগুলো আপনারা চিনবেন না,শুধু আমরাই চিনবো এমন কিছু পয়সা পেলে প্রতি পয়সা ১৬ হাজার টাকা করে দিবো। আপনি সব গুলো পয়সা নিয়ে আসেন। আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে আমি আপনাদের সাথে পরে যোগাযোগ করবো।

money-93206_1920.jpg
Source

আমি আর কোন দোকানে গেলাম না। আমি বুঝে গেছি যে এগুলো আসলেই গুপ্তধন। আমি রিকশায় বসে বাসায় আসার সময় চিন্তা করতে লাগলাম যে এগুলো দিনাজপুর থেকে কিভাবে আনা যায়। পুলিশের চোখে ফাকি দিয়ে কিভাবে ঢাকায় ঢুকাবো। এরকম হাজারো চিন্তা করতে করতে বাসায় আসলাম। বাসায় আসতে আসতে রাত তখন আটটা বেজে গেল। বাসায় এসে বসতেও পারি নাই ঐ লোকে ফোন দিয়ে দিলো। আমি উনাকে বুঝিয়ে বললাম যে ভাইয়া এই পয়সা গুলো বিভিন্ন দোকানে বিভিন্ন দাম বলে, কেউ বলে ৬০০ শত টাকা আবার কেউ বলে ৮০০ শত টাকা করে দিবে। এখন আপনাকে সাথে নিয়ে এরপর এগুলো বিক্রয় করতে হবে। এখন গুলো আপনি কবে নিয়ে আসবেন। উনি বলে আমি তো এগুলো একা নিয়ে যেতে পারবো না,আপনি দিনাজপুর আসেন,তারপর দুইভাই মিলে ঢাকা নিয়ে যাবো। আমি বললাম আপনি একা নিয়ে আসলে সমস্যা কি..? তিনি বলে আমার খালু আমাকে একা বিশ্বাস করে এগুলো দিবে না,আপনি আসলে তখন বিশ্বাস করবে। আমি বললাম আচ্ছা ঠিক আছে কবে আসবো আমি আগামীকাল কে জানাবো। এই কথা বলে ফোন রেখে দিলাম।

আমি এখন মনে মনে চিন্তা করতে লাগলাম, উনি তার আপন ভাগিনা হয়,তাকে বিশ্বাস করে কয়েন গুলে দিবে না। আর আমাকে তো উনার খালু কোনদিন দেখেনি চিনেনা জানে না অথচ আমাকে দেখলেই বিশ্বাস করে ফেলবে আর কয়েন গুলো দিয়ে দিবে। মনের মধ্যে খটকা লাগলো।

ঐদিন রাতে বিছানায় সুয়ে সুয়ে রঙিন স্বপ্ন দেখতে লাগলাম। হিসাব করতে লাগলাম। ছয়হাজার কয়েন আটশো টাকা করে হলেও প্রায় আট চল্লিশ লাখ টাকার উপরে আসে। উনার খালুকে অর্ধেক দিয়ে সব খরচ বাদ দিয়েও কম করে হলে দশ লাখ টাকা পাবো। ভাগ্য আমার খুলে গেছে, বড় লোক হয়ে গেছি। একটি প্রবাদআছে “গাছে কাঠাঁল গোফে তেল” ঐরকম অবস্থা আর কি। যায় হোক দশ লাখ টাকা দিয়ে কি কি করবো প্লান করতে করতে ঘুমিয়ে গেলাম।

old-3302673_1920.jpg
Source

পরের দিন সারাদিন চিন্তা করলাম কি করা যায়। কিভাবে কয়েন গুলো ঢাকা আনা যায়। কবে দিনাজপুর যাওয়া যায়। এরকম হাজারো চিন্তা করতে গিয়ে মনে পড়ে গেল কয়েকদিন পরে তো ঈদুল আজহা (কুরবানির ঈদ)। ঈদে তো বাড়িতে যেতে হবে। বাড়ি থেকে এসে দিনাজপুর যাবো। আমি সন্ধায় ঐ লোককে ফোন করে জানিয়ে দিলাম যে আমি ঈদে বাড়িতে যাবো,ঈদের পরে বাড়ি থেকে এসে দিনাজপুরে আপনাদের বাড়িতে যাবো কয়েন গুলো আনতে। তিনি বললেন আচ্ছা ঠিক আছে।

ঈদের পরের ঘটনাটা পরের পর্বে আসতেছে।

555555.png

111.png

D5zH9SyxCKd9GJ4T6rkBdeqZw1coQAaQyCUzUF4FozBvW7jpbMNKdA1Swxiey857mvDu4v9YQGGGa7u8o3aSuH2T9hohoCpGA4xjXECnmqJUuaGBR4n9tutUQsJX8FzZckBvZL.png

112.gif

Authors get paid when people like you upvote their post.
If you enjoyed what you read here, create your account today and start earning FREE STEEM!
Sort Order:  

হ্যাঁ ঠিক বলেছেন "গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল"। কয়েন গুলো এখনো হাতে পেলেন না অথচ টাকা দিয়ে কি কি করবেন সেই পরিকল্পনা করে ফেললেন। সেই কয়েন গুলো কি হতে পারে এটা নিয়ে বেশ কৌতুহল থেকে গেল। একটা বিষয় আমার কাছে খুব খটকা লাগলো, নিজের ভাগ্নেকে বিশ্বাস করছে না অথচ আপনি গেলেই দিয়ে দিবে। ব্যাপারটা কেমন হয়ে গেল না।
দেখা যাক কি হয় অপেক্ষায় থাকলাম।

জী ভাইয়া এটা আমারও খটকা লেগেছে। সে জন্যই তো যায় নি। ধন্যবাদ।