!! সুইসাইড নোট(প্রথম পর্ব)!! ১০% বেনিফেসিয়ারি @shy-fox এর জন্য

in hive-129948 •  last month  (edited)

💞"সফলতার জন্য প্রতিযোগিতার দরকার নেই বারবার নিজেকে ছাড়িয়ে যান"💞

আমার বাংলা ব্লগে,সবাইকে স্বাগতম।

আজ মঙ্গলবার, ১৭ ই মে,২০২২।

আমি @emon42.

বাংলাদেশ🇧🇩 থেকে



man-gdfd0bc5ce_1920.jpg


Source


কয়েকদিন হলো খেয়াল করছি ইমতির মন খারাপ। অস্বাভাবিক আচরণ করে। কিছু জিজ্ঞেস করলে কোনো উওর দেয় না। কারো সাথেই কথা বলে না। এখন ঠিকমতো খাওয়া দাওয়া করে না। সবসময়ই কী যেন একটা ভাবনা চিন্তার মধ্যে ডুবে থাকে। বাড়ির সবাই বিষয়টি খেয়াল করছে। এতো সুন্দর হাসিখুশি ছেলেটার এই অবস্থা দেখে বাড়ির কেউ মেনে নিতে পারছে না। ইদানিং ও আবার রাতে ঘুমাই না। সারারাত জেগে থাকে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে গেছে। যাইহোক আমি ভাবলাম কিছু একটা করা দরকার এভাবে আর চলতে দেওয়া যায় না। আমি ইমতির বড় ভাই। বেশি না নাম মাএ বড়। মানে আমাদের বয়সের গ‍্যাপ দুই বছরের। তাই। আমার নাম সাদিক। তাই ভাবলাম ইমতির মন খারাপের রহস্য উন্মোচনে আমাকে নামতে হবে। নেমেও পড়লাম। তবে সেটা যে দেরি হয়ে যাবে বুঝতে পারি নাই। যাইহোক ইমতি অস্বাভাবিক হলেও এখনো প্রতিনিয়ত সকালে ছাদে যায় হাঁটাহাঁটি করে। কিন্তু সেদিন ও ছাদে যায়নি। অনেক বেলা হয়ে গিয়েছি। ভাবলাম অনেকদিন ঠিকভাবে রাতে ঘুমাই না আজ হয়তো ঘুমিয়ে পড়েছে। যায় ডেকে নিয়ে আসি। ইমতি সাধারণত দরজা বন্ধ খোলা রেখে ঘুমাই। কিন্তু সেদিন দেখি দরজা বন্ধ। ভাবলাম যাই জানালা দিয়ে ওকে ডাকি। জানালা দিয়ে ওর ঘরে তাকিয়ে আমি যা দেখলাম সেটা দেখার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।



জানালা দিয়ে তাকাতেই আমার নজর গেল উপরের দিকে। দেখি ইমতি সিলিং ফ‍্যানের সাথে ঝুলছে এক দৃষ্টিতে জানালার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। এটা দেখে রীতিমতো আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল। আমি যেন কথা বলতে পারছি না। চেষ্টা করেও কাউকে ডাকতে পারছি না। এখন কী করব এটা আমার মাথায় আসছে না। আমি চিৎকার করে কাঁদতেও পারছি না। মানে আমি স্বাভাবিক নেই নিজের উপর থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছি। এরপর ইমতি বলে একটা চিৎকার দিলাম। সর্বপ্রথম ছুটে এলো আমার ছোট কাকা। আমরা মোটামুটি জয়েন ফ‍্যামিলা। এরপর এলো আমার চাচাতো ভাই জামিল। এসে ওরাও দেখে বিশ্বাস করতে পারছে না। মূহুর্ত্তের মধ্যে এলাকায় হূলস্থূল অবস্থার সৃষ্টি হয়ে গেল। আমার বাকরুদ্ধ। পরিবারের সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েছে। পরিবারের সবচেয়ে আদরের ছেলের এমন পরিণতি কে মেনে নিতে পারে বলুন।



পাড়ার ছেলেরা ইমতির দেহটা নিচে নামাল। এই দৃশ্য সহ‍্য করতে পারব না সেজন্য আমরা কেউ দেখি নাই। পাড়ার ছেলেরা বডি টা নামিয়ে বাইরে নিয়ে গেল। এবং একজন আমার কাছে একটা ডায়েরি দিয়ে গেল। বলল এটা বিছানার উপর ছিল। ডায়েরি টা অল্প কিছুদিন হলো লেখা শুরু করেছিল এবং এর মধ‍্যেই শেষ। যাইহোক আমি আর ওদিকে নজর দেয় নাই। আমার বাবা মা সবাই ভেঙে পড়েছে। সান্ত্বনা তে কী আর ছেলে হারানোর দুঃখ ভুলে থাকা যায়। আমার ছোটকাকার আবার মোটামুটি ক্ষমতা আছে। ক্ষমতা বলে উনি পুলিশকে থামালেন। পরিবারের আদরের ছেলের দেহকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ছিন্নভিন্ন করা হবে এটা উনি মেনে নিতে পারেননি। যাইহোক সন্ধ‍্যার আগে ইমতির দাফন সম্পন্ন হলো।



সবাইকে ধন্যবাদ💖💖💖।






Amar_Bangla_Blog_logo.jpg

Banner(1).png

3jpR3paJ37V8JxyWvtbhvcm5k3roJwHBR4WTALx7XaoRovUdcufHKutmnDv7XmQqPrB8fBXG7kzXLfFggSC6SoPdYYQg44yvKzFDWktyjCspTTm5NVQAdTm7UoN34AAMT6AoF.gif



Heroism_Second.png



Authors get paid when people like you upvote their post.
If you enjoyed what you read here, create your account today and start earning FREE STEEM!
Sort Order:  

আমি আর মন্তব্যে তেমন কিছু বলবো না, তবে খুব ইচ্ছে হচ্ছে ডায়েরির মধ্যে কি লেখা ছিল, অল্প কয়েক দিনে একটি ডায়েরি কিভাবে লেখা শেষ হয়ে গেলো অর্থাৎ তার মধ্যে রয়েছে গভীর কোনো কথা, এর পরবর্তী পর্ব জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।

জী আপনি ঠিকই ধরেছেন। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।।

পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।ইতিমের ডায়রিতে কি লিখা ছিলো।আসলেই সাদিক সাহেবের দেরি হয়ে গিয়েছে। ধন্যাবাদ

ধন্যবাদ আপু আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।।

কেন এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু আর ডাইরিতে কি লিখা ছিল তা জানার অপেক্ষায় রইলাম।
ভালো লিখনী এগিয়ে যাক সামনের দিকে।
শুভ কামনা এবং দোয়া সবসময়ই রয়েছে ❣️

ধন্যবাদ ভাই অনুপ্রেরণা দেওয়ার জন্য।।

ইমন বাহহ দারুন গল্প লিখেছে ভেরি ইন্টারেস্টিং বটে জানিনা এই ঘটনার মোর কোথায় গিয়ে ঘুরবে অপেক্ষায় রইলাম তোমার দিত্বিয় পর্বের জন্য শুভ কামনা রইল এগিয়ে যাও।

ধন্যবাদ তোমাকে।

সুসাইড কোন ভাবে কাম্য নয়। আপনার পোস্টটি পড়ে খুবই কষ্ট লাগলো। পরবর্তী পোস্টের জন্য অপেক্ষাতে থাকলাম, ধন্যবাদ।

আপনি ঠিকই বলেছেন। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।।

সফলতার জন্য প্রতিযোগিতার দরকার নাই। আপনার এই মধুর বাণীটি যে কাউকে এগিয়ে নেবে। আপনার আজকের কাহিনীটি হৃদয়বিদারক এর মধ্যেই পড়ে যা অনেকেরই ভালো লাগবে এবং বুঝার খোরাক হবে।

ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য।।

আবার এসে দোয়া করে যাবেন এই কামনা।

ভাল লিখেছেন। ইমতির কেন এই সুইসাইড করা এবং তার সেশ কয়েকদিনের ডাইরির লিখনি পড়ার জন্য ২য় পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।
আপনার জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা রইল

ধন্যবাদ ভাই

ইদানীং সুইসাইড এর হার অনেক গুণে বেড়ে গিয়েছে। এর মূল কারণ হলো মানুষ তার মনের কথাগুলো অন্য কাউকে বলতে পারছে না ভেতরে ভেতরে মরে যাচ্ছে। যখন একদমই সহ্য করতে পারেনা তখনই সুইসাইড এর পথ বেছে নিচ্ছে। কিন্তু সুইসাইড মোটেও কাম্য নয়।
ডাইরিতে কি লেখা ছিল খুব জানতে ইচ্ছে করছে। দ্বিতীয় পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। আশা করি খুব দ্রুতই আমাদের অপেক্ষার অবস্থান করবেন।

একেবারে ঠিক বলেছেন আপনি।ধন‍্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য

যে মানুষটি সব সময় হাসিখুশি থাকে হঠাৎ যদি তার হাসিখুশি হারিয়ে যায় তাহলে বাড়ির সকলেরই মন খারাপ হয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক ।বিশেষ করে আপনি যখন জানলা দিয়ে উঁকি দিয়ে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলতে দেখছেন এ বিষয়টি সত্যিই দেখার জন্য কেউ প্রস্তুত থাকে না। ধন্যবাদ সুন্দর একটি গল্প উপহার দেওয়ার জন্য।

ধন্যবাদ আপনার মন্তব্য টা আমাদের সাথে শেয়ার করে নেওয়ার জন্য।।